বিড়ালের আত্মরক্ষা
মহম্মদ ঘোরী শাহ
সেদিন প্রাত ভ্রমণের সময় অদ্ভুত একটা দৃশ্য দেখলাম। যেটা আমার মনে আজও গভীর দাগ কেটে আছে। যখনই একটা বিরাট প্রতিপক্ষ আমার উপর অন্যায় অত্যাচার নামিয়ে আনে ,তখনই মনে শক্তি জাগে যে ছুটে না পালিয়ে যতটুকু শক্তি আছে তা নিয়েই রুখে দাঁড়াই।
বিড়াল যে বাঘের মাসী সেদিন স্বচক্ষে প্রমাণ পেলাম। সে বাচ্চাই হক আর বুড়ো হক জাত একই l তাদেরকে কেউ আক্রমণ করলে ত প্রতিহত করতে জানে। পিঠ পেতে চিরকাল মার খেতে জানেনা।তাদের রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য এমনটাই।
তখন পুব আকাশ কেবল লাল হয়েছে , ঝোপের মধ্যে তখনো অন্ধকার আছে। ইতিমধ্যেই রাস্তাই প্রাত ভ্রমণকারী দের আনাগোনা শুরু হয়েছে। এমন সময় শুনতে পেলাম একটি ঝোপের মধ্যে বিড়ালছানা ম্যাও ম্যাও ম্যাও ডাক। হয়ত বিড়ালছানাটি তার মাকে খঁজে ছে। হত তার মা তাকে রেখে শিকারে বেরিয়ে পড়েছে। বিরালছানার কাতর ডাক শুনতে পাওয়া মাত্রই গোটা চারেক সন্দমার্কা কুকুর তেরে এসে ঝোপের মধ্যে প্রবেশ করল। অমনি বিড়ালছানাটি ঝোপ থেকে বেরিয়ে দিল ছুট। কুকুরগুলো তার পিছু নিল।
কিছু দূরে একটা বাগানবাড়ী ছিল, তার প্রাচীর খুব উঁচু ছিল। এখানেই বিড়ালছানাটি আটকে পড়ল, সে উঁচু প্রাচীর দেখেই টপকানো চেষ্টা না করেই ঘুরে বসে পড়ল। রুদ্রস্বশে কুকুরগুলো সেখানে হাজির হলো। বিকট গর্জনে কুকুরগুলো বিড়ালছানা ঘাড় মটকে দিতে চাই। সে নিথর হয়ে গেছে। এবার হইতো কুকুরের ধারালো দাঁত তার ঘাড়ে বসে যাবে। ভাবলাম , বিড়ালছানা প্রাণ বেঘোরে গেল বুঝি। কিন্তু না, ঘটল অন্য ঘটনা। যেমনি একটা কুকুর তার ঘাড়ে দাঁত বসতে গেল ,তখনই দেওয়ালে পিঠ ঠেক বিড়ালছানাটি গর্জন করে থাবা ছুড়ে দিল। ব্যাস আর যাই কোথা, কুকুরটার নাক দুফাল। ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছে, বিকতভাবে গোঙাতে গোঙাতে ছুটতে লাগল। তার আর্তনাদের শব্দে অন্য কুকুরগুলো ভয়ে দিল দৌড়।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। বিড়াল ছানাটির আত্মরক্ষার প্রয়াসে অভিভূত হলাম। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আক্রমনাত্মক হওয়া কত জরুরি ত আজ পরখ করলাম। সেদিন যদি পেলহু খান নাক চিরে দিতে পারত, ভাইরাল হওয়া ভিডিও গ্রহনযোগ্য না হলেও নাকের ক্ষত প্রমাণ হিসাবে নিশ্চয় থাকত।

Comments