নাসিমা খান
যারা সমঅধিকার বলে চিৎকার করে আমি তাদের দলে নই । নারীর শারীরিক কাঠামো এমন যা পুরুষের তুলনায় নমনীয় এবং দূর্বল। ড. জাকিয়া বেগম তার এক সম্পাদনায় লিখেছেন, বিগত ১০ বছরে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী,সমাজ বিজ্ঞানীদের পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, পুরুষ ও মহিলাদের মস্তিষ্কে গঠনগত পার্থক্য ছাড়াও আছে তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতির ভিন্নতা। তাই তাদের উপলব্ধি, কল্পনা, স্বভাব ও পারদর্শীতার ক্ষেত্রগুলোও ভিন্ন।
শারীরিক কাঠামোর দিক দিয়ে পুরুষরা অধিক শক্তিশালী এবং পেশিশক্তিও তাদের বেশি। সাধারণভাবে পুরুষদের মস্তিষ্কের ওজন মহিলাদের তুলনায় ১০০ গ্রাম এবং মস্তিষ্কের কোষকলার সংখ্যা ৪% বেশি। অধিক মাংসবহুল শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই বড় মস্তিষ্কের প্রয়োজন।
মহিলাদের বিপাকীয় পদ্ধতি পুরুষদের তুলনায় শ্লথ। মহিলাদের ফুসফুস অপেক্ষাকৃত ছোট; কিন্তু কিডনি, পাকস্থলী, যকৃৎ পুরুষদের তুলনায় বড়। সন্তান জন্মদান, স্তন্যদান ইত্যাদি কারণে হরমোন-সংক্রান্ত কার্যকারিতার ব্যাপকতা মহিলাদের বেশি।
সে ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলে, পুরুষ শক্তিশালী । একজন শক্তিশালী পুরুষের কাছে, একজন দূর্বল নারী যখন অসহায় তখন তারা কীভাবে পুরুষের সাথে কাঁধ মিলিয়ে চলবার সাহস পায় আমি বুঝিনা । অগ্রাধিকার পাওয়ার দাবি তুলতে পারি,সমাধিকার নয়।
আমাকে ক্ষমা করবেন, মানুষ হিসাবে মনুষ্যত্ব নিয়ে বাঁচতে চাই বলেই আমি অগ্রাধিকার চাই।
আজকাল সমাজে যে ধর্ষণ প্রক্রিয়া চলছে তার জন্য নারী পুরুষ উভয়েই দায়ী ।
একজন পুরুষ ধর্ষক হতে পারে, নারী নয় কেনো বলুন তো ?
তবে কিছু নারী ধর্ষকেরও জন্ম হচ্ছে আমাদের সমাজে ! সে ক্ষেত্রে উনারা অবলিলায় ধর্ষকও বটে । মিটিং, মিছিলে যে পরিমানে বেশরম যৌণ উত্তেজনামূলক পোশাক পরে পুরুষের শরীরের সাথে শরীর মিশিয়ে যে সভা সমিতি করেন তা দেখে মনে হয় উনারা সন্তান লালন পালন করেন না, খুব সম্ভব সন্তান জন্ম দিয়ে হয় স্বামীদের হাতে তুলে দিয়ে না হয় বুয়াদের হাতে তুলে দিয়ে অন্য পুরুষদের সাথে সভা সমিতিতে অমুক ভাইয়া, তমুক ভাইয়া বলে নিজেদের বিকৃত রুচির পরিচয় দিচ্ছে ।
নারীরা সব পারে। আমিও জানি সব পারে, সে ক্ষেত্রে নিজেরা বাইরে কতটুকু নিরাপদ আপনিই বলুন। নারী ভালো মা,ভালো শিক্ষক, ভালো কবি,ভালো রাধুনি, ভালো সংগঠক। সাধুবাদ জানাই! সংঘবদ্ধভাবে নারী স্বাধীন। পুরুষের মত একাকী রাস্তায়, সভায়,সংগঠনে কতটা স্বাধীন, আপনিই বলুন! হয়তো বলবেন আমার মাথা নষ্ট!
স্বীকার করি মাথা নষ্ট! কারণ প্রতিদিন খবর পড়ে সারমর্ম যা পাই,তাতে সত্যি আমার মাথা নষ্ট।
এ ক্ষেত্রে পুরুষকে আমি মেরুদণ্ডহীন ছাড়া আর কিছুই বলতে পারছিনা । কারণ কিছু পুরুষ স্ত্রীদেরকে পুরুষদের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান ।
তাই আজকে সমাজ ধ্বংশের মূল হোতা মেরুদণ্ডহীন পুরুষদেরকেই বলবো । স্ত্রীর ভরণ পোষণ দেবার ক্ষমতা নেই বলেই সন্তান লালন পালনের পরিবর্তে টাকা ইনকামের জন্য এমপি মন্ত্রী ভাইয়াদের কাছে পাঠিয়ে দেন ।
সর্বস্ব খুইয়ে যখন ঘরে এসে ক্লান্ত দেহ এলিয়ে দেন, স্বামীর চাহিদা মেটাতে পারেন না, তখন ঐসব পুরুষরাই আবার কাজের বুয়াদের যৌণ সঙ্গী হিসাবে বেছে নেন অথবা অফিস সহকর্মী মহিলাদের দিয়ে কাজ সারেন ।
সময় এসেছে পুরুষদের জন্য ।
আপনারা হয় স্বামী হোন, না হয় বেশ্যা পুরুষ হোন,
আপনারা হয় বাবা হোন, না হয় মেয়ের ধর্ষক হোন ।
আপনার মেয়ে যখন ধর্ষিত হয়ে ঘরে ফেরে তখন কান্নার দরকার কী, আপনিই তো তাকে পাঠিয়েছিলেন, পুরুষের কাছে ।
ঘৃণা হয় এইসব পুরুষদের প্রতি, তারাই ঘরে ঘরে ধর্ষক এবং ধর্ষিতার জন্ম দেয় ।
চাকুরীর অধিকার আছে, কিন্তু এমন অধিকার বাঞ্চিত নয়, যা সমাজটাকে ধ্বংশ করে ।
আজকাল যাদের নোংরামীতে সমাজ কলুষিত বেশী হচ্ছে তারা হলেন, নায়ক, নায়িকা, পরিচালক, কবি, সাংবাদিক, সমাজ সেবক/সেবিকা, মন্ত্রী, যারা নারী স্বাধীনতার নামে যৌন ক্ষুধার নামে নিজেদের বিকিয়ে দিচ্ছে সমাজের বিত্তবান পুরুষদের/কামুক নারীদের কাছে ।
নারী পুরুষের এই হীন মন্যতাই আজ, পুরুষদের তথা পুরো সমাজের নোংরামি কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী ।
আর মুলে রয়েছে, মেরুদণ্ডহীন পুরুষ । যারা ঘরের স্ত্রীকে সম্মানজনক জীবিকাতে তুলে না দিয়ে,যৌথ সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ঘরের ইজ্জতকে পুরুষের শরীরের সাথে শরীর মিশিয়ে চলবার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেন । মাসে দুএকটা মিটিং যথেষ্ট নয়, মাঝে মাঝে ভাইয়াদের সাথে পিকনিক, ভাইয়াদের ইনবক্সে প্রেমের আলাপ ।
আপনি কেমন পুরুষ অথবা নারী যে আপনার স্ত্রীর অথবা স্বামীর ফেসবুকের আইডি জানেন না ? তাহলে কী আছে ঐ ইনবক্সে যা আপনি অথবা আপনার স্ত্রী তা লুকাতে চান ? কেনো নিজেদের স্বামী অথবা স্ত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না ?
এই সমাজটাকে ধ্বংশ করছেন আপনারা যারা স্বামী অথবা স্ত্রীর কাছে লুকাতে চান জীবন বৃত্তান্ত !
আপনি কেমন স্ত্রী যে স্বামীর সব বিষয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখেন না ?
আপনি কেমন স্বামী যে স্ত্রীর ফেসবুকের পাসওয়ার্ড জানেন না ?
এই সব নোংরা পুরুষ নর নারীকে বলছি আপনারা সংযত হয়ে সমাজটাকে বাঁচতে দিন, ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে সমগ্র দেশটাকে বাঁচতে দিন ।
এই সমাজটা নোংরামীতে ভরে গেছে ।
আপনারা যখন ধর্ম মতে বিবাহ করেন তখন শপথ থাকে ভরণ পোষণ দিবেন । আর হিন্দুরা যখন সাত পাক ঘুরে শাখা সিঁদুর পরিয়ে ঘরের বউ করে আনেন,তখন তো এই শর্তেই আনেন তাদের ইজ্জতের পুরো দায়িত্ব নিবেন আপনি । তাহলে কেনো শেষ পর্যন্ত নাস্তিক হয়ে ওঠেন ?
আর যারা নাস্তিক তারা আমার এই লেখাকে মূল্যায়ন না করলেও চলবে । ধর্মের ছায়াতলে একবার দাঁড়িয়ে দেখেন কতটা শান্তি পাবেন ।
আপনার স্বামী অথবা স্ত্রী আপনার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে নোংরামি করার জন্য , ভালো কথা তাদের পরিত্রাণ দিন । ডিভোর্স দিয়ে দিন । তারপর অবাধে যৌন আবেদন নিয়ে পুরুষের চোখে অমুক ভাবী, অমুক আপা হয়ে অথবা অমুক ভাইয়া, অমুক বন্ধু হয়ে যৌন সুখের লীলাকর্মে ভাসিয়ে দিন নিজেদের । সমস্যা কী ?
আপনারা ফ্রী মিক্সের নামে নিজেদের পর্ণ ছবির নায়ক অথবা নায়িকা বানিয়ে ফেলবেন না ।
সমাজ ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে । নারীর শরীরটা নিয়ে যখন এত আতঙ্ক তখন রাতের আঁধারে আপনার স্ত্রীদের অথবা মেয়েকে ঘরের বাইরে পাঠাবেন না ।
আপনাদের মত পুরুষরাই এই সমাজ ধ্বংশের হোতা ।
ক্ষমা করবেন । আমি শঙ্কিত আপনাদের নোংরামী দেখে ।
হা,আসুন আমরা নিজেদের শুদ্ধ করি যার যার ধর্ম পালনে মনোযোগ দিই। দেখেছেন মৃত্যুর জন্য এখন বয়স লাগে না! কখন হুট করে চলে যাবো।

Comments