স্বপ্ন বনাম বাস্তব
নাসিমা খান
আমরা প্রত্যেকে বাস্তববাদী একথা সত্য নয় ।যদিও কঠিণ বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমরা পথ চলি ।তারপরও আমরা আশা করি , নতুন কিছু হবে, আমরা নতুন কিছু পাবো ।আমাদের এই আশা করাকে কেউ কেউ স্বপ্নবিলাসী বলে তিরস্কার করতে পারে , কিন্তু আসলেই আমরা সকলেই স্বপ্নবিলাসী ।
ছোট বেলায় পড়েছি, এক্সাম দিতে হয়েছে -আশা তার একমাত্র ভেলা ।
আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি ,তখন শিখেছি আশা করতে দোষ নেই, আশার ভেলায় চড়ে চলে যাবো আকাশ সীমানার বাইরে ।
আর আশাই পারে আমাদের জীবনকে স্বার্থক মানুষ করে তুলতে ।
এখানে একটু খানি দ্বিমত থাকতেই পারে ,এবং তা স্বাভাবিক ।কল্পনা এবং আশা এক নয়, হতেও পারে না ,যাযাবর লিখেছিলেন-কী আছে ওর ভীতর ?
উত্তরে তিনিই বলেছিলেন-প্রেম আপন গভীরতায় নিজের মধ্যে একটা মোহাবেশ রচনা করে । সেই মোহের দ্বারা যাকে ভালোবাসে তাকে আমরানিজের মনে মনে মনোমত করে গঠন করি ।
যে সৌন্দার্য তার নেই, সে সৌন্দার্য তাতে আরোপ করি । যে গুণ তাঁর অভাব, সে গুন তার কল্পনা করি ।সে তো বিধাতার কোন সৃষ্ট কোন ব্যক্তি নয়, সে আমাদের নিজ মনোসউদ্ভুত এক নতুন সৃষ্টী ।
কী আছে ওর ভীতর ? তাই না? -যা আছে তা ওই মেয়েতে নয়,-যে ভুলেছে তার বিমুগ্ধ মনের সৃজনধর্মী কল্পনায় ।
সুতরং কল্পনার এই দিকটাকে আমরা অবজ্ঞা করতে পারবো না ।তাই কল্পনাবিলাসী মানুষ গুলোকে অবজ্ঞা করা উচিত হবে না, তার বিমুগ্ধতাকে তার সুখের ভেলা হিসাবে পেরিয়ে যেতে আমরা সাহায্য না করি হতাশ ,করবো না ।
শিব খেরা বলেছেন-বাস্তব জীবন পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজেকে সজ্জিত করো ।
এখন বাস্তবতাকে আমরা বেশি করেই উপলব্ধি করছি ।এখানে স্বপ্ন বা কল্পনার কোন স্থান নেই, কিন্তু বাস্তবতাকে কঠোর ভাবে মোকাবেলা করতে গেলে আমাদের কিছু লক্ষ্য তো অবশ্যই থাকবে ।আর লক্ষ্যকে সুসজ্জিত করতে হলে যে পরিকল্পনা, তাতো কল্পনাকেই ঘিরে ।
আমরাতো আগে থেকেই চাক্ষুষ কিছু দেখি না, কল্পনাতে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করি আগে ।
এর কোনো স্বাক্ষ্য প্রমাণের অভাব হতে পারে ,তবে অনুভুতিটাও কিন্তু কল্পনার অংশ বিশেষ ।
তবে আরও কিছু ভিত্তি দরকার ছিলো কল্পনাটাকে স্বার্থক রূপে দাঁড় করবার জন্য ।তা না হলে উপহাস কারীরা কটাক্ষ্য করতে ছাড়বেন না ।স্বপ্নবিলাসীদের পাশে দাঁড়াবার স্বদিচ্ছা তখন একেবারেই কুড়ীতেই বিনাষের সম্ভবনা তখন একশতভাগ ।
এখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে ।আমাদের অনুভুতিটা এখানে প্রবল । যে যা দেখিনি , তাকে পুরোটায় বিশ্বাস করে বাস্তব জীবনের সাথে একাকার করে নিয়েছি।কোনটা বিশ্বাস আর কোনটা বাস্তব ,এখানে আমরা তার বিভেদ করতে একেবারেই পারি না ,তেমনি কল্পনায় আঁকা স্বপ্নকে বাস্তবতার রূপ দিতে না পারলেও স্বপ্ন দেখি , কল্পনাতে তার স্বাধ মেটায় ।স্বপ্ন আর কল্পনা তাই মিলে মিশেই রিয়েছে ।
আমাদের স্বপ্নকে কল্পনায় এঁকে বাস্তবতায় রূপ দেবার ইচ্ছা পোষোণ করি ।
আমাদের জীবনবাদী দার্শনীক গন একথা মানতে বাধ্য নয়, বাধ্য করবার মত দায়ভার ও কেউ নিতে সাহস পাবে না , কারণ কল্পনাতে যারা চাঁদ ছুঁতে চায় আমরা তাদের দলে যেতে পারি না। কারণ আমরা হোচোট খেয়েছি জীবনের অলিতে গলিতে ।
তাই আমরা একশত ভাগ মানুষ এখন বাস্তববাদী ।তাই হারিয়েছি অনুভুতির পরশ, শরীরে খোঁচা লাগলে ব্যাথা লাগে না, কেবল রক্ত বের হয় ।ডেটল সেভলন আছে , ডাক্তার আছে ,ব্যান্ডেজ ,পট্টি আছে ।
এখানে সুকান্তের চাঁদ ঝলসানো রুটির মতই ।
বাস্তব আর স্বপ্নের সংঘাতের কোন পথ খোলা নায় ।আমরা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে আর স্বপ্ন দেখি না ।ছেলের মুখের পানে তাকিয়ে কল্পনাতে ডাক্তার উকিল হবার স্বপ্নও দেখি না ।
আমরা শুধু দেখি কিভাবে নিজের বর্তমান মুহুর্ত কেমন যাবে । এখন কী করছি, আর কি ফল দেবে ।
তারপরও আমার পথের মাঝে বড় সড় ফাঁক দেখতে পারি । আমি স্বপ্নবিলাসী ।

Comments