বাবরি মসজিদ ধংশের মূল্যায়ণনতুন প্রজন্ম করবে কি?
মহম্মদ ঘোরী শাহ্
“একটা উদ্দেশ্য প্রনোদিত নিছকআবে গ ঐতিহ্য,শাসন,প্রশাসন,আইন সবকি ছুকেইনিথর করে দিতে পারে- বাবরি মসজিদ ধংশই তার শ্বাসরোধকউদাহরণ ।আজ থেকে ছাব্বিশবছর আগে রাজনৈ তিকদলগুলোর বাবরি মসজিদেরউপর বহু মাত্রিক ফায়দা লুণ্ঠনেরপরিনতই এ ই কলঙ্ক ইতিহাসেরউপর চেপে বসল।কি ন্তু নতুনপ্রজন্ম কি খতিয়ে দে খতেচায়বেনা এই পরিনতি কিঅবশ্যম্ ভাবীই ছিল?”
বাবরি মসজিদ নামটা উচ্চারিত হলে ইদেশপ্রেমী মানুষের চিত্তপটে এক টা চক্রান্তেরধারাবাহিক চিত্ রনাট্য ভেসে উঠে।এই চক্রান্তবহু ধারায় প্রসারিত। ভারতীয় জাতীয়তা বাদকেদুর্বল করার জন্য বৃট্রিশ শাসকগন এই বাবরিমসজিদকে ব্যবহার করে দ্বিজাতিতত্ত্বেরউদ্ভাবন ক রেন।এর মূল উদ্দেশ্যইছিল ভারতী য়দের স্বাধীনতার আন্দোলনকেদুর্ বল করা এবং বৃট্রিশ শাসনের সমর্ থক একহিন্দু জাতীবোধ সৃষ্টি করা ।আমরা দেখেছি,স্বাধীনতার পরবর্ তীকাল ভারতে যে উগ্রহিন্দুজাতী বোধ সফলভাবে ভারতেররাজনীতিকে নি য়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়েছেতার প্ রধান কারনই হল বাবরি সমজিদউন্মা দনা।আর এই প্রক্রিয়াকে সফল করার জন্য সচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হ য়েছে ইতিহাস,প্রশাসন ও বিচার প্ রক্রিয়াকে।
পিছন ফিরে তাকালে এটা স্পষ্ট,১৫ ২৭ সালেপ্রথম মুঘল সম্রাট বাবরে নির্দেশে অযোধ্যায়একটি মসজিদ নি র্মান করেন মীর বাকী,যারনামকরণ সম্রাট বাবরের নামেই হয়।সমসা ময়িক ইতিহাসের তথ্য থেকে এটামি লেনা যে এটি বিতর্কিত জমি বা মন্ দির ধংশকরে নির্মিত হয়েছিল।আর হ য়ে থাকলে হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ অযো ধ্যায় নির্মানকালেইবিক্ষোভ-প্ রতিবাদ ঘটত।মজার বিষয় হল,বাবরি সমজিদ নির্মানের দুইশ' বছর পর১৮ ৫৩সালে নবাব ওয়াজেদ আলির সময়েপ্ রথম দাবী ওঠে যে মন্দির ধংশ করে মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।বাবরি ম সজিদকেকেন্দ্রকরে সবচেয়ে গুরুত্ ব পূর্ণ ঘটনাটি ঘটে১৯৪৯ সালে।এই সময় প্রশাসন হঠাৎইমসজিদের ভি তরে রামচন্দ্রের মুর্তিখুঁজেপায় ,অথচ তখন পর্যন্ত মসজিদেনামাজপা ঠ চলত।এই ঘটনাটি মুসলিমরাচক্রা ন্ত বলেই মনে করে।
এর পর থেকেই হিন্দু জনমানসে বা বরিসমজিদ নিয়ে উন্মাদনা বাড়তে থা কে।বিভিন্নহিন্দু সংগঠন এর আনু কূল্যে চাঙ্গা হতে থাকে।আর শান্ তির খাতিরে আদালত একের পরএক সং গরিষ্ঠদের পক্ষেই রায় দিতে থাকে ।আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বি জেপিতাদের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরে কং গ্রেসের ঘাড়েরউপর নিশ্বাস ফেলতে থাকে।রাজনৈতিক মঞ্চেতাদের একটা ই দাবী থাকে বাবরি সমজিদধংশ করে রামমন্দির নির্মান।
বাবরি মসজিদ ধংশের প্রথম প্রচে ষ্টা হয়১৯৯০ সালে।কিন্তু তৎকালী ন প্রধান মন্ত্রীচন্দ্রশেখরের দৃ ঢ়তায় তা ব্যর্থ হয়।এর পর১৯৯২ সা লে ৬ই ডিসেম্বর লক্ষ লক্ষ করসে বক লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলী মনো হরজোসী,উমা ভারতী ও অশোক সিংহল প্রমুখের নেতৃত্বে মসজিদ চত্বরে জমায়েত হয়।অথচ ঐ সময় মসজিদ চত্ বর আদালত কতৃকনিয়ন্ত্রিত ছিল এবং মসজিদ প্রাঙ্গনে ১৪৪ধারাজারি ছি ল।কিন্তু তা সত্বেও ঘটেগেল এতবড় অঘটন। অথচ তৎকালীন উত্তর প্রদে শেরমুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং সরকা র সুপ্রিম কোর্টেহলফ্ নামা পেশ করেছিল যে,করসেবা কালেমসজিদের নিরাপত্তা অক্ষুন্ন থাকবে।সেইমর্ মেই সর্বোচ্চ আদালত নিদ্দিষ্ট স্ থানেকরসেবার অনুমতি দিয়েছিল।কি ন্তু ধংশেরপরিকল্পনাটা ছিল পূর্ ব নির্ধারিত।১৯৯০ সালেউত্তর প্ রদেশের মুলায়েম সিং সরকারকরসে বকদের উপর গুলি চালিয়েই বাবরিসম জিদকে রক্ষা করেছিল।পক্ষান্তরে কল্যাণসিং হলফ্ নামা দিলেও তিনি এটা প্রচারকরেছিলেন এবার তাঁর পুলিশ করসেবকদেরউপর গুলি চালবে না।
সুতরাং মুলায়েম সিংএর প্রত্যয় দে খে আজওএটা মনে হয়,বাবরি মসজিদ ই স্যুটিকে অন্যউপত্যকায় প্রবাহিত করানো যেত।কিন্তুকংগ্রেস ও বি জেপির রাজনৈতিক সমীকরণটাছিল অভি ন্ন।বাবরি মসজিদ ধংশটাই ছিলউভয় দলের কাম্য।আর উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকেনিজ নিজ রাজনৈতিক ফায়দা তো লাই ছিলমূল লক্ষ্য।
বিজেপির লক্ষ্যটা ছিল স্পষ্ট, উ দ্ভুত উন্মাদনারদ্বারা অবশিষ্ট কংগ্রেসীয় হিন্দুদের দলে টানা।স মগ্র হিন্দুদের মেরুকরণের মধ্ যদিয়ে দি্ল্লীঅধিকার করা।আর বা স্তবে তা'ই হয়েছিল।কিন্তু ঐসময়ে প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমারা ওয়ের নিষ্ক্রিয়তাও রাজনৈতিকপরি কল্পনারই প্রকাশ মাত্র।আইনগত ভা বে ঐসময় বাবরি মসজিদ রক্ষায় তাঁ রঅনেককিছুই করার ছিল।কিন্তু তি নি ছিলেনএকেবারে নিষ্ক্রিয়। হয়তো নিরব ছিলেন এইভেবে, বাবরি মসজি দ রক্ষা করলে তাঁর দলহিন্দুদের একাংশের সমর্থন হারাবে।অথবা,বা বরি মসজিদ ধংশের অপবাদ বিজেপিরউ পর বর্তাবে এবং এতে হিন্দুদের এ কাংশবীতশ্রদ্ধ হয়ে বিজেপি হতে মু খ ফেরাবে।কিন্তুলাভ হল বিজেপি’র ই।
সে যাইহোক, ভারতীয় আইনমতে সৌধ ধংশকরা এবং তৎসংশ্লিষ্ট কারণে দা ঙ্গা বাঁধানোঅপরাধ,কিন্তু ছাব্ বিশ বছর পরেও তার বিচারপ্রক্রি য়া সমাপ্তির মুখ দেখতে পেল না।বা বরিমসজিদ ধংশ করেও রাজনীতির শেষ হয়নি।মসজিদের জমি সংক্রান্ত বি বাদ ও রাম মন্দিরনির্মান বিষয় আ জও রাজনীতিকে আক্সিজেনদিয়ে চলছে ।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রা জনীতির সমীকরণযখন শিল্প,বাণিজ্য , বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি প্রভৃতিবি ষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তখন ভারতীয়সমাজ মসজিদ-মন্দির উন্মা দনায়রাজনীতিবিদদের রাজনীতিকে সহ জ করেদিচ্ছে। সুতরাং ভারতীয় যু বসমাজকে আজউপলবদ্ধি করতে হবে বর্ তমান রাজনীতিরস্বরূপ।মন্দির- মসজিদের চত্ত্বর যেকর্মসংস্থানে র উৎস নয় এটা ভাবতেই হবে।নইলে আ মাদের আফ্রিকার দেশগুলোরপিছনে দাঁ ড়াতে বেশি সময় লাগবে না।

Comments