Ticker

6/recent/ticker-posts

বাবরি মসজিদ ধংশের মূল্যায়ণনতুন প্রজন্ম করবে কি?
মহম্মদ ঘোরী শাহ্
“একটা উদ্দেশ্য প্রনোদিত নিছকআবেগ ঐতিহ্য,শাসন,প্রশাসন,আইন সবকিছুকেইনিথর করে দিতে পারে- বাবরিমসজিদ ধংশই তার শ্বাসরোধকউদাহরণ।আজ থেকে ছাব্বিশবছর আগে রাজনৈতিকদলগুলোর বাবরি মসজিদেরউপর বহুমাত্রিক ফায়দা লুণ্ঠনেরপরিনতই এই কলঙ্ক ইতিহাসেরউপর চেপে বসল।কিন্তু নতুনপ্রজন্ম কি খতিয়ে দেখতেচায়বেনা এই পরিনতি কিঅবশ্যম্ভাবীই ছিল?”
বাবরি মসজিদ নামটা উচ্চারিত হলেইদেশপ্রেমী মানুষের চিত্তপটে একটা  চক্রান্তেরধারাবাহিক চিত্রনাট্য ভেসে উঠে।এই চক্রান্তবহুধারায় প্রসারিত। ভারতীয় জাতীয়তাবাদকেদুর্বল করার জন্য বৃট্রিশ শাসকগন এই বাবরিমসজিদকে ব্যবহার করে দ্বিজাতিতত্ত্বেরউদ্ভাবন করেন।এর মূল উদ্দেশ্যইছিল ভারতীয়দের স্বাধীনতার আন্দোলনকেদুর্বল করা এবং বৃট্রিশ শাসনের সমর্থক একহিন্দু জাতীবোধ সৃষ্টি করা।আমরা দেখেছি,স্বাধীনতার পরবর্তীকাল ভারতে যে উগ্রহিন্দুজাতী বোধ সফলভাবে ভারতেররাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করতে সক্ষম হয়েছেতার প্রধান কারনই হল বাবরি সমজিদউন্মাদনা।আর এই প্রক্রিয়াকে সফল করারজন্য সচারুভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ইতিহাস,প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে।
পিছন ফিরে তাকালে এটা স্পষ্ট,১৫২৭ সালেপ্রথম মুঘল সম্রাট বাবরে নির্দেশে অযোধ্যায়একটি মসজিদ নির্মান করেন মীর বাকী,যারনামকরণ  সম্রাট বাবরের নামেই হয়।সমসাময়িক ইতিহাসের তথ্য থেকে এটামিলেনা যে এটি বিতর্কিত জমি বা মন্দির ধংশকরে নির্মিত হয়েছিল।আর হয়ে থাকলে হিন্দুসংখ্যাগরিষ্ঠ অযোধ্যায় নির্মানকালেইবিক্ষোভ-প্রতিবাদ ঘটত।মজার বিষয় হল,বাবরি সমজিদ নির্মানের দুইশ' বছর পর১৮৫৩সালে নবাব ওয়াজেদ আলির সময়েপ্রথম দাবী ওঠে যে মন্দির ধংশ করেমসজিদটি নির্মিত হয়েছিল।বাবরি মসজিদকেকেন্দ্রকরে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ ঘটনাটি ঘটে১৯৪৯ সালে।এই সময় প্রশাসন হঠাৎইমসজিদের ভিতরে রামচন্দ্রের মুর্তিখুঁজেপায়,অথচ তখন পর্যন্ত মসজিদেনামাজপাঠ চলত।এই ঘটনাটি মুসলিমরাচক্রান্ত বলেই মনে করে।
এর পর থেকেই হিন্দু জনমানসে বাবরিসমজিদ নিয়ে উন্মাদনা বাড়তে থাকে।বিভিন্নহিন্দু সংগঠন এর আনুকূল্যে চাঙ্গা হতে থাকে।আর শান্তির খাতিরে আদালত একের পরএক সংগরিষ্ঠদের পক্ষেই রায় দিতে থাকে।আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে  বিজেপিতাদের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরে কংগ্রেসের ঘাড়েরউপর নিশ্বাস ফেলতে থাকে।রাজনৈতিক মঞ্চেতাদের একটাই দাবী থাকে বাবরি সমজিদধংশ করে রামমন্দির  নির্মান।
বাবরি মসজিদ ধংশের প্রথম প্রচেষ্টা হয়১৯৯০ সালে।কিন্তু তৎকালীন প্রধান মন্ত্রীচন্দ্রশেখরের দৃঢ়তায় তা ব্যর্থ হয়।এর পর১৯৯২ সালে ৬ই ডিসেম্বর লক্ষ লক্ষ করসেবক লালকৃষ্ণ আদবানী, মুরলী মনোহরজোসী,উমা ভারতী ও অশোক সিংহল প্রমুখের নেতৃত্বে মসজিদ চত্বরে জমায়েত হয়।অথচ ঐ সময় মসজিদ চত্বর আদালত কতৃকনিয়ন্ত্রিত ছিল এবং মসজিদ প্রাঙ্গনে ১৪৪ধারাজারি ছিল।কিন্তু তা সত্বেও ঘটেগেল এতবড়অঘটন। অথচ তৎকালীন উত্তর প্রদেশেরমুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং সরকার সুপ্রিম কোর্টেহলফ্ নামা পেশ করেছিল যে,করসেবা কালেমসজিদের  নিরাপত্তা অক্ষুন্ন থাকবে।সেইমর্মেই সর্বোচ্চ আদালত নিদ্দিষ্ট স্থানেকরসেবার অনুমতি দিয়েছিল।কিন্তু ধংশেরপরিকল্পনাটা ছিল পূর্ব নির্ধারিত।১৯৯০ সালেউত্তর প্রদেশের মুলায়েম সিং সরকারকরসেবকদের উপর গুলি চালিয়েই বাবরিসমজিদকে রক্ষা করেছিল।পক্ষান্তরে কল্যাণসিং হলফ্ নামা দিলেও তিনি এটা প্রচারকরেছিলেন এবার তাঁর পুলিশ করসেবকদেরউপর গুলি চালবে না।
সুতরাং মুলায়েম সিংএর প্রত্যয় দেখে আজওএটা মনে হয়,বাবরি মসজিদ ইস্যুটিকে অন্যউপত্যকায় প্রবাহিত  করানো যেত।কিন্তুকংগ্রেস ও বিজেপির রাজনৈতিক সমীকরণটাছিল অভিন্ন।বাবরি মসজিদ ধংশটাই ছিলউভয় দলের কাম্য।আর উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকেনিজ নিজ রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই ছিলমূল লক্ষ্য।
বিজেপির লক্ষ্যটা ছিল স্পষ্ট, উদ্ভুত উন্মাদনারদ্বারা অবশিষ্ট কংগ্রেসীয় হিন্দুদের দলে টানা।সমগ্র হিন্দুদের মেরুকরণের মধ্যদিয়ে দি্ল্লীঅধিকার করা।আর বাস্তবে তা'ই হয়েছিল।কিন্তু ঐসময়ে প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমারাওয়ের নিষ্ক্রিয়তাও রাজনৈতিকপরিকল্পনারই প্রকাশ মাত্র।আইনগত ভাবে ঐসময় বাবরি মসজিদ রক্ষায় তাঁরঅনেককিছুই করার ছিল।কিন্তু তিনি ছিলেনএকেবারে নিষ্ক্রিয়। হয়তো নিরব ছিলেন এইভেবে, বাবরি মসজিদ রক্ষা করলে তাঁর দলহিন্দুদের একাংশের সমর্থন হারাবে।অথবা,বাবরি মসজিদ ধংশের অপবাদ বিজেপিরউপর বর্তাবে এবং এতে হিন্দুদের একাংশবীতশ্রদ্ধ হয়ে বিজেপি হতে মুখ ফেরাবে।কিন্তুলাভ হল বিজেপি’রই।
সে যাইহোক, ভারতীয় আইনমতে  সৌধ ধংশকরা এবং তৎসংশ্লিষ্ট কারণে দাঙ্গা বাঁধানোঅপরাধ,কিন্তু ছাব্বিশ বছর পরেও তার বিচারপ্রক্রিয়া সমাপ্তির মুখ দেখতে পেল না।বাবরিমসজিদ ধংশ করেও রাজনীতির শেষ হয়নি।মসজিদের জমি সংক্রান্ত বিবাদ ও রাম মন্দিরনির্মান বিষয় আজও রাজনীতিকে আক্সিজেনদিয়ে চলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাজনীতির সমীকরণযখন শিল্প,বাণিজ্য, বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি প্রভৃতিবিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তখন ভারতীয়সমাজ মসজিদ-মন্দির উন্মাদনায়রাজনীতিবিদদের রাজনীতিকে সহজ করেদিচ্ছে। সুতরাং ভারতীয় যুবসমাজকে আজউপলবদ্ধি করতে হবে বর্তমান রাজনীতিরস্বরূপ।মন্দির-মসজিদের চত্ত্বর যেকর্মসংস্থানের উৎস নয় এটা ভাবতেই হবে।নইলে আমাদের আফ্রিকার দেশগুলোরপিছনে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগবে না।

Post a Comment

1 Comments